প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময়! কখন টেস্ট করালে নিভুল রেজাল্ট পাওয়া যায়?

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময়

আমি যখন প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে জানতে পারলাম আমি পজিটিভ। আমি মা হবো। সেই দিনটা আমার জীবনে ছিল সবচেয়ে খুশির দিন। কখন প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে সঠিক রেজাল্ট পেয়েছি। আমার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো। প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময় জেনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

মাসিক দেরি হলে অনেক নারীর মনেই প্রথম প্রশ্ন আসে-“আমি কি প্রেগন্যান্ট?”
এই প্রশ্নের উত্তর জানার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রেগন্যান্সি টেস্ট করানো। কিন্তু অনেকেই খুব আবেগতাড়িত হয়ে তাড়াহুড়ো করে টেস্ট করেন, ফলে ফলাফল ভুল আসার সম্ভবনা তৈরি হয়। তাই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময় জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পোস্টে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময়

এই আর্টিকেলে আপনি জানতে পারবেন:

  • প্রেগন্যান্সি টেস্ট কখন করা উচিত
  • সকালে না রাতে টেস্ট ভালো
  • কতদিন পরে সঠিক ফল পাওয়া যায়
  • ভুল রিপোর্ট আসার কারণ
  • ঘরে বসে টেস্ট করার নিয়ম

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কীভাবে কাজ করে

প্রেগন্যান্সি টেস্ট মূলত শরীরে থাকা hCG (Human Chorionic Gonadotropin) নামের একটি হরমোন শনাক্ত করে। গর্ভধারণের পর এই হরমোন দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

Read more: বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষের অবশ্যই করণীয়

সাধারণত:

  • ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার ৬–১২ দিনের মধ্যে hCG তৈরি হয়।
  • এরপর প্রস্রাবে এই হরমোন ধরা পড়ে।

তাই খুব তাড়াতাড়ি টেস্ট করলে নেগেটিভ আসতে পারে, যদিও আপনি প্রেগন্যান্ট হতে পারেন।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময়

বিশেষজ্ঞদের মতে,
মাসিক মিস হওয়ার অন্তত ৫–৭ দিন পরে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করলে সবচেয়ে নির্ভুল ফল পাওয়া যায়। আমার মাসিক মিস হওয়ার (১৫) পনেরো দিন পরে টেস্ট করিয়েছিলাম। রেজাল্ট পজিটিভ আসছিল। আমি যেমন, খুশি হয়েছিলাম। আমার হ্যাজবেন্ড তেমনি আনন্দিত হয়েছিল।

যদি আপনার মাসিক নিয়মিত হয়? মাসিক বন্ধ হওয়ার পর ১-২ সপ্তাহ অপেক্ষা করুন।

উদাহরণ: আপনার মাসিক হওয়ার তারিখ ১০ মে। যদি ১০ মে মাসিক না হয়। তাহলে, ১৫–২৫ মে টেস্ট করা ভালো।

যদি মাসিক অনিয়মিত হয়; সেক্ষেত্রে সহবাসের ১৪–২১ দিন পরে টেস্ট করুন। আমার অনিয়মিত ছিল। তাই, আমি একটু সময়ে করাই। এবং আমার রেজাল্ট পজিটিভ আসে।

সকালে না রাতে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করবেন?

আমি সকালে ঘুম থেকে ওঠেই প্রথম প্রস্রাব দিয়ে টেস্ট করাই। কারণ সকালের প্রস্রাব দিয়ে টেস্ট করালে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। সকালে প্রস্রাবে hCG হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে। ফলে, ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে গর্ভধারণের একদম শুরুর দিকে সকালে টেস্ট করাই ভালো।

খুব তাড়াতাড়ি টেস্ট করলে কী হয়?

অনেক নারী মাসিক মিস হওয়ার আগেই টেস্ট করেন। আপনি এই কাজ করবেন না। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আগে টেস্ট করানোই ভলো না। সময়মতো টেস্ট করানো ভালো। নাহলে, প্রেগন্যান্সি টেস্টের ফল নেগেটিভ আসতে পারে। প্রেগন্যান্সি টেস্টের ফলের কারণে মানসিক দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার ঘরোয়া উপায়:

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার জন্য যা লাগবে; একটি ভালো মানের pregnancy test kit, যেকোনো ফার্মেসি বা ডিসপেনসারিতে পেয়ে যাবেন। পরিষ্কার পাত্র, টাইমার বা ঘডি।

কিটের নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ুন। সকালে প্রথম প্রস্রাব সংগ্রহ করুন। নির্দিষ্ট স্থানে কয়েক ফোঁটা প্রস্রাব দিন। ৩–৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। ফলাফল দেখুন।

প্রেগন্যান্সি টেস্টে কয়টি দাগ মানে কী?

১টি লাল দাগ

  • নেগেটিভ
  • গর্ভধারণ হয়নি

২টি লাল দাগ

  • পজিটিভ
  • গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেশি

হালকা দাগ হলেও সেটি পজিটিভ হতে পারে। তাই, হালকা দাগ হলে আবার টেস্ট করাতে পারেন। অথবা কোনো গাইনিক্লোজিস্টট ডাক্তার দেখানো উচিৎ।

প্রেগন্যান্সি টেস্টে ভুল রিপোর্ট আসার কারণ কি?

প্রেগন্যান্সি টেস্ট ভুল হতে পারে যেসব কারণে

  • খুব দ্রুত টেস্ট করা; নির্দিষ্ট সময়ের আগেই টেস্ট করানো।
  • মেয়াদোত্তীর্ণ কিট ব্যবহারের ফলে এমন হতে পারে।
  • নির্দেশনা ঠিকমতো না মানা
  • অতিরিক্ত পানি পান করা
  • কিছু ওষুধের প্রভাব

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

নিচের পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:

  • প্রেগন্যান্সি টেস্টে বারবার ভিন্ন ফল আসলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
  • তীব্র পেট ব্যথা হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।;
  • অতিরিক্ত রক্তপাত হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।;
  • টেস্ট পজিটিভ হলেও অসুস্থ লাগলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।;

প্রেগন্যান্সির প্রাথমিক লক্ষণ কি কি?

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে আর দেরি না করে প্রেগন্যান্সির টেস্ট করান। তারপর, অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  • মাসিক বন্ধ হওয়া
  • বমি বমি ভাব
  • স্তনে ব্যথা
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • ঘন ঘন প্রস্রাব
  • খাবারে অরুচি

কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

মনে রাখবেন, এক্ষেত্রে অবহেলা করার সুযোগ নেই। আপনার পরিবারে নতুন অতিথী আসছে। এজন্য শুরু থেকেই মায়ের যত্ন নেয়া আপনার দায়িত্ব এবং কর্তব্য। ভালো বীজ থেকে ভালো চারা উৎপাদন হয়। তেমনই সুস্থ্য মা সুস্থ্য বেবি।

  • সবসময় ভালো ব্র্যান্ডের কিট ব্যবহার করুন।
  • সন্দেহ থাকলে ২–৩ দিন পর আবার টেস্ট করুন।
  • নিশ্চিত হতে রক্ত পরীক্ষা (Beta hCG) করতে পারেন।
  • টেস্ট পজিটিভ হলে দ্রুত গাইনী ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

উপসংহার

যাদের প্রথম বাচ্চা তাদের জন্য সঠিক সময় জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রেগন্যান্সি টেস্ট খুব তাড়াতাড়ি করলে ভুল ফল আসতে পারে। সাধারণত মাসিক মিস হওয়ার ৫–৭ দিন পরে টেস্ট করতে হয়। আর যাদের অনিয়মিত মাসিক তারা ১০- ১৫ দিন পরে। সকালে প্রথম প্রস্রাব দিয়ে টেস্ট করলে সবচেয়ে নির্ভুল ফল পাওয়া যায়। টেস্টে পজিটিভ হলে বাড়িতে বসে থাকবেন না। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সূত্র: সেরা ডাক্তার

One response to “প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময়! কখন টেস্ট করালে নিভুল রেজাল্ট পাওয়া যায়?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post