আমি আমার গর্ভকালীন সময়ের নানাদিক নিয়ে আলোচনা করি। তার ধারাবাহিকতায় আজ আলোচনা করবো গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত। একনজ নারীর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো গর্ভধারণকালীন সময়। সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে গর্ভকালীন বাচ্চার বেড়ে ওঠা সহজ করা যায়। আমি কি কি ফল খেতাম। সেই সব থাকছে আজকের পোস্টে।
- গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত?
- গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা:
- গর্ভাবস্থায় যে ফলগুলো খাওয়া উচিত
- ১. ডালিম/আনার:
- ৩. আপেল: আপেলে রয়েছে আয়রন, ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
- ৫. মৌসুমি ফল আম
- গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম:
- গর্ভাবস্থায় কোন ফল কম খাওয়া ভালো?
- গর্ভবতী মায়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- উপসংহার:
কারণ, মায়ের খাবার থেকে গর্ভের বাচ্চা পুষ্টি গ্রহণ করে। এই সময়ে মায়ের খাবারের উপর নির্ভর করে গর্ভের শিশুর সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশ। তাই, পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি সঠিক ফল খাওয়া খুবই জরুরি।
অনেকেই জানতে চান – গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত? কোন ফল বেশি উপকারী এবং কোন ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম কী। এই আর্টিকেলে আমরা গর্ভবতী মায়েদের জন্য উপকারী ফল, তাদের পুষ্টিগুণ এবং সতর্কতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। Read more: বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষের করনীয়? এই ৭টি কাজ না করলে হতে পারে বড় বিপদ!
গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত?

গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত। সেটা জানার আগে জানতে হবে কেন গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়া প্রয়োজন। ফল খেলে কি কি উপকার হয়। আর ফল না খেলে কি কি সমস্যা হতে পারে।
ফলে রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ফল খেলে;
- শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ভালো হয়
- মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে
- কোষ্ঠকাঠিন্য কমে
- শরীরে শক্তি বৃদ্ধি পায়
- রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে
- গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা:
এবার বলি আমার অবস্থার কথা। আমি প্রথম থেকেই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে চলছিলাম। ওষুধ সেবন করছিলাম। প্রথমে ডাক্তার আমার কয়েকটা টেস্ট করালো। সেগুলোর রিপোর্ট দেখে আয়রন ওষুধ খেতে দিল। সেগুলো সেবন করছি। সব ঠিকঠাক ছলছে। ইতোমধ্যে আমার গর্ভকালীন প্রায় প্রথম ট্রাইমিস্টার শেষ।
এই সময়ে এসে প্রথম (CBC Test) সিবিসি টেস্ট করাতে দিল। টেস্টের রির্পোট দেখে তো ডাক্তার বললো হিমোগ্লোবিন খুব কম। প্লাটিলেটও কম। যেখানে হিমোগ্লোবিন ১১ এর থেকে বেশি থাকার কথা সেখানে আমার ছিল ৭.৫। আর প্লাটিলেট ১.৫ লাখের কম। এই অবস্থায় আমাকে বললো রক্ত বাড়ানোর ওষুধ দিল।
আর বললো একমাস পরে আবার টেস্ট করাতে রির্পোট দেখে বলতে পারবে ব্লাড দিতে হবে নাকি না দিলেও চলবে। আর, খাবার তালিকায় যুক্ত হলো লাল ফল বা যেসব কেটে রাখলে কালো হয়ে যায় এমন ফল। তখন থেকে ডেলিভারি পর্যন্ত প্রতিদন আনার খেয়েছি। খেয়েছি বিটরুট। লাল শাক। কচু শাক। কুলে খারার পাতা।
গ্রামের বাড়ি থেকে নিয়ে এসে সেদ্ধ করে রেখে দিতাম ফ্রিজে। বের করে গরম করে খেতাম। তারপরও দুই ব্যাগ ব্লাড দিতে হয়েছে। হিমোগ্লোবিন ১০ এ ওঠে নি। ডেলিভারির সময় এক ব্যাগ ব্লাড রেডি করে রাখতে হয়েছিল। যদিও সেই ব্যাগ ব্লাড আর দেয়নি।
Read more: প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময়! কখন টেস্ট করালে নিভুল রেজাল্ট পাওয়া যায়?
“প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যানুসারে ৩৭ শতাংশ গর্ভবতী নারী রক্তশূন্যতায় ভোগেন”।
গর্ভাবস্থায় যে ফলগুলো খাওয়া উচিত
গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত। আমি বলবো প্রথমে আনারের নাম। এছাড়া, দেশি বিদেশী অনেক উপকারী ফল আছে। যেগুলো খেলে আপনার গর্ভকালীন জার্নি সহজ হয়ে যাবে। রক্ত স্বল্পতা থেকে রক্ষা করবে। আপনার গর্ভের শিশুর সঠিক বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করবে। আমি যেসব ফল খেয়েছি তার একটি লিস্ট আপানাদের সাথে শেয়ার করবো।
১. ডালিম/আনার:
ডালিম/ আনার গর্ভবতী মায়েদের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল। নিয়মিত আনার খেলে রক্ত বৃদ্ধি করে। গর্ভবতী মায়ের আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে। শিশুরু মতিস্কের বিকাশে সহায়তা করে। শরীরে শক্তি যোগায়।
২. কলা:
গর্ভবতী নারীদের জন্য কলা খুবই উপকারী একটি ফল। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ ও ফাইবার। গর্ভবতী মায়েদের বমিভাব কমাতে সাহায্য করে কলা। কলা হজম শক্তি বাড়ায়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। শরীরে দ্রুত শক্তি যোগাতে সাহায্য করে কলা।
৩. আপেল: আপেলে রয়েছে আয়রন, ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
আপেলের রয়েছে অনেক উপকারিতা। আপেল শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে। রক্তস্বল্পতা কমায়। আপেল হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে প্রতিদিন ১টি আপেল খাওয়া গর্ভবতী মায়ের জন্য ভালো অভ্যাস। ‘Take an apple a day keep the doctor away’। প্রতিদিন একটি করে আপেল খান ডাক্তারকে দূরে রাখুন।
৪. কমলা ও মাল্টা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফলগুলো গর্ভাবস্থায় অত্যন্ত উপকারী। ভিটামিন সি শরীরে আয়রন শোষণে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কমলা শরীরকে হাইড্রেট রাখে। ডি-হাইডেশন হতে রক্ষা করে।
৫. মৌসুমি ফল আম
পাকা আমে রয়েছে ভিটামিন এ ও সি। ভিটামিন এ ও সি রয়েছে বিভিন্ন উপকারিতা। শিশুর চোখ ও ত্বকের বিকাশে সহায়ক। হজম শক্তি উন্নত করে। শরীরের ক্লান্তি দূর করে। তবে, অতিরিক্ত আম খাওয়া ঠিক নয়, কারণ এতে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকে। আর, আম মৌসুমি ফল। সব সময় পাওয়া যায় না। যখন পাওয়া যায়। সময় নিয়ম করে ভালো আম খাওয়া উপকারী।
৬. পেয়ারা: পেয়ারা রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি ও ফাইবার। ভিটামিন এ ও সি রয়েছে বিভিন্ন উপকারিতা। উপকারিতা শিশুর চোখ ও ত্বকের বিকাশে সহায়ক। হজম শক্তি উন্নত করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
৭. আঙুর: পরিমিত পরিমাণে আঙুর খাওয়া গর্ভাবস্থায় উপকারী। উপকারিতা। শিশুর চোখ ও ত্বকের বিকাশে সহায়ক। হজম শক্তি উন্নত করে। শরীরের ক্লান্তি দূর করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে। তবে, মনে রাখা উচিৎ বেশি আঙুর খেলে আবার কোষ্ঠ্যকাঠিন্য সমস্যা হতে পারে।
৮. অ্যাভোকাডো: অ্যাভোকাডোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফলিক অ্যাসিড ও পটাশিয়াম। উপকারিতা। শিশুর চোখ ও ত্বকের বিকাশে সহায়ক। হজম শক্তি উন্নত করে। শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে। গর্ভকালীন পায়ে ক্র্যাম্প কমায়। হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখেয়।
গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম:
গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার সময় কিছু বিষয় অবশ্যই মেনে চলতে হবে। কারণ, ফল খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে ফল খাবেন। টাটকা ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন ভিন্ন ধরনের ফল খান। অতিরিক্ত ফলের জুস না খেয়ে আসল ফল খেতে চেষ্টা করুন।
যেগুলো এড়িয়ে চলবেন: পচা বা কাটা ফল এড়িয়ে চলবেন। অতিরিক্ত মিষ্টি ফল খাবেন না। রাস্তার খোলা ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে উপকার থেকে অপকার হবে বেশি।
গর্ভাবস্থায় কোন ফল কম খাওয়া ভালো?
কিছু ফল অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়।
- অতিরিক্ত আনারস
- কাঁচা পেঁপে
- অতিরিক্ত আঙুর
- অতিরিক্ত আম
এসব ফল পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
গর্ভবতী মায়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন
- সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন
- নিয়মিত চিকিৎসকের চেকআপ করুন
- ফলের পাশাপাশি শাকসবজি ও প্রোটিন জাতীয় খাবার খান
উপসংহার:
গর্ভাবস্থায় সঠিক ফল নির্বাচন মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলা, আপেল, কমলা, ডালিম, পেয়ারা ও অ্যাভোকাডোর মতো পুষ্টিকর ফল নিয়মিত খেলে গর্ভবতী মা সুস্থ থাকেন এবং শিশুর সঠিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়। প্রথম আলো
তবে যেকোনো খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। যদি বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য তালিকা তৈরি করবেন। সূত্র: প্রথম আলো
- গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া উচিত?
- গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা:
- গর্ভাবস্থায় যে ফলগুলো খাওয়া উচিত
- ১. ডালিম/আনার:
- ৩. আপেল: আপেলে রয়েছে আয়রন, ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
- ৫. মৌসুমি ফল আম
- গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম:
- গর্ভাবস্থায় কোন ফল কম খাওয়া ভালো?
- গর্ভবতী মায়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- উপসংহার:



